Our social:

Latest Post

Showing posts with label জীবনী. Show all posts
Showing posts with label জীবনী. Show all posts

Thursday, January 12, 2017

চিন্তানায়ক স্বামী বিবেকানন্দ

আজ ১২ জানুয়ারি বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণের পরে অন্যতম পার্বণ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন।
বিবেকানন্দের পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত (ডাকনাম ছিল বীরেশ্বর বা বিলে এবং নরেন্দ্র বা নরেন)।১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি উৎসবের এক পবিত্র দিনে উত্তর কলকাতার সিমলা পল্লীর ৩ নং গৌরমোহন মুখোপাধ্যায় স্ট্রিটে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।তাঁর পিতা বিশ্বনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতা উচ্চ আদালতের একজন খ্যাতনামা আইনজীবী। তিনি ছিলেন তার নয় ভাই-বোনের অন্যতম। তাঁর মধ্যম ভাই মহেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও বিদেশ ভ্রমণে বিবেকানন্দের সঙ্গী। কনিষ্ঠ ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিশিষ্ট সাম্যবাদী নেতা ও গ্রন্থকার।
৬৮৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করা শ্রীপাদ শংকরাচার্যই প্রথম হিন্দুজাতির রক্ষার্থে সংগঠনের ধারণা এবং আধুনিক যুগে সংগঠন বলতে আমরা যা বুঝি তা তৈরি করেন। সনাতন ধর্ম রক্ষার্থে তিনি সাংগঠনিক প্রয়োজনে ভারতবর্ষকে পূর্ব,পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ - এ চারভাগে বিভক্ত করে এ চারভাগকে দেখাশুনার জন্যে তাঁর চার প্রধান শিষ্য পদ্মপাদ,হস্তামলক,তোটকাচার্য এবং সুরেশ্বর এ চার প্রধান শিষ্যকে দায়িত্ব দেন। শ্রীপাদ শংকরাচার্যের হাতে জন্ম নেয়া হিন্দু সংগঠন এবং ভারতীয় বৈদান্তিক আধ্যাত্মবাদ কিভাবে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে যাবে সে পথ আমাদের দেখান স্বামী বিবেকানন্দ। স্বামীজী ছিলেন প্রাচীন এবং বর্ত্তমান ; ভারতবর্ষীয় এবং পাশ্চাত্ত্যের সফল যোগসূত্রকারী। তাঁর পূর্বেও কয়েকজন বাঙালীর সন্তান প্রতাপচন্দ্র মজুমদার এবং মোহিনীমোহন চট্টোপাধ্যায় গিয়েছিলেন ভারতীয় আধ্যাত্মবাদ প্রচারে ; কিন্তু তাঁরা তেমন সফলতা বা সাড়া পাননি। কিন্তু স্বামীজী তাঁর পাণ্ডিত্য এবং বিদগ্ধতায় এলেন, দেখলেন এবং জয় করে নিলেন পাশ্চাত্য -আমেরিকানদের হৃদয়। তাঁর পরবর্তী ধারাক্রমে পাশ্চাত্য -আমেরিকায় ধর্মপ্রচারে যাঁরা অনন্য অবদান রাখেন তাঁরা হলেন-
১. স্বামী সারদানন্দ
২.স্বামী অভেদানন্দ
৩.স্বামী তুরিয়ানন্দ
৪.স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ
৫.পরমহংস যোগানন্দ
৬.মহানামব্রত ব্রহ্মচারী
৭.শ্রীচিন্ময়
৮.অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী
( প্রচারের সন অনুসারে বিবেকানন্দ পরবর্তী এই আটজনের তালিকা সাজানো হল)
স্বামী বিবেকানন্দ হলেন আধুনিক ভারতবর্ষের আইকন, আধুনিক হিন্দুজাতির আইকন। আজ আমরা প্রাচ্য- পাশ্চাত্যের সমন্বয়ে যে চিন্তার কাঠামো তৈরি করি তার অন্যতম কারিগর এবং চিন্তাসূত্রকার তিনি। নেতাজী সুভাষ বসু থেকে সকল বিপ্লবীদের প্রেরণার বাতিঘর ছিলেন তিনি। তরুণ এবং যুবসম্প্রদায়ের জাগরণে তাঁর অবদান অনন্যসাধারণ। তাইতো তাঁর জন্মদিন ভারতে যুবদিবস হিসেবে পালিত। সেই ভারতীয় অধ্যাত্মবাদ প্রচারের বীরসেনাপতি, চিন্তানায়ক,যুগনায়ক স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৪ তম জন্মদিনে তাঁর প্রতি রইলো অনন্ত শ্রদ্ধা এবং প্রণাম।

 


Monday, January 9, 2017

মা সারদাদেবী


 



যাঁর ছবি-প্রতিমার দিকে তাকালে কৃপাময়ী মা ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না ; সেই ঠাকুর রামকৃষ্ণের শক্তি এবং সাধনসঙ্গী মা সারদাদেবীর আজ পবিত্র জন্মতিথি। জন্মতিথিতে মায়ের শ্রীপাদপদ্মে সহস্র প্রণাম।
১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর, বাংলা ১২৬০ সনের ৮ পৌষ, অগ্রহায়ণ মাসের কৃষ্ণা সপ্তমী তিথিতে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত প্রত্যন্ত গ্রাম জয়রামবাটীর এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে সারদা মায়ের জন্ম হয়। তাঁর পিতা রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও মাতা শ্যামাসুন্দরী দেবী অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ছিলেন। সারদা দেবীর পিতৃকূল মুখোপাধ্যায় বংশ পুরুষানুক্রমে ভগবান শ্রীরামের উপাসক ছিলেন। সারদা দেবী ছিলেন তাঁদের জ্যেষ্ঠা কন্যা তথা প্রথম সন্তান। জন্মের পর প্রথমে সারদা দেবীর নাম রাখা হয়েছিল "ক্ষেমঙ্করী"। পরে "ক্ষেমঙ্করী" নামটি পালটে "সারদামণি" রাখা হয়। রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কৃষিকাজ ও পুরোহিতবৃত্তি করে জীবিকানির্বাহ করতেন এবং তিন ভাইকে প্রতিপালন করতেন। দরিদ্র হলেও রামচন্দ্র ছিলেন পরোপকারী ও দানশীল ব্যক্তি। কথিত আছে, সারদা দেবীর জন্মের আগে রামচন্দ্র ও শ্যামাসুন্দরী উভয়েই অনেক দিব্যদর্শন করেছিলেন। সারদা মায়ের জন্মের পর রামচন্দ্র ও শ্যামাসুন্দরীর কাদম্বিনী নামে এক কন্যা এবং প্রসন্নকুমার, উমেশচন্দ্র, কালীকুমার, বরদাপ্রসাদ ও অভয়চরণ নামে পাঁচ পুত্রের জন্ম হয়।
বাল্যকালে সাধারণ গ্রামবাসী বাঙালি মেয়েদের মতো সারদা দেবীর জীবনও ছিল অত্যন্ত সরল ও সাদাসিধে। ঘরের সাধারণ কাজকর্মের পাশাপাশি ছেলেবেলায় তিনি তাঁর ভাইদের দেখাশোনা করতেন, জলে নেমে পোষা গোরুদের আহারের জন্য ঘাস কাটতেন, ধানখেতে ক্ষেতমজুরদের জন্য মুড়ি নিয়ে যেতেন, প্রয়োজনে ধান কুড়ানোর কাজও করেছেন। সারদাদেবীর প্রথাগত বিদ্যালয়ের শিক্ষা একেবারেই ছিল না। ছেলেবেলায় মাঝে মাঝে ভাইদের সঙ্গে পাঠশালায় যেতেন। তখন তাঁর কিছু অক্ষরজ্ঞান হয়েছিল। পরবর্তী জীবনে কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের ভ্রাতুষ্পুত্রী লক্ষ্মী দেবী ও শ্যামপুকুরে একটি মেয়ের কাছে ভাল করে লেখাপড়া করা শেখেন। ছেলেবেলায় গ্রামে আয়োজিত যাত্রা ও কথকতার আসর থেকেও অনেক পৌরাণিক আখ্যান ও শ্লোক শিখেছিলেন। ছেলেবেলায় পুতুলখেলার সময় লক্ষ্মী ও কালীর মূর্তি গড়ে খেলাচ্ছলে পূজা করতেন। সেই সময় থেকেই তাঁর বিবিধ দিব্যদর্শনের অভিজ্ঞতা হত। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সাথে তাঁর বিবাহ হয়। এ বিবাহই তাকে এক কিংবদন্তী দিব্য মাতৃপ্রতিমায় পরিণত করে।
১৯২০ সালের ২০ জুলাই ৬৬ বছর বয়সে তিনি মহাসমাধী লাভ করেন পশ্চিমবাংলার কলকাতার
বাগবাজার মায়ের বাড়িতে।
মায়ের জন্মতিথিতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি সরূপ তার অসংখ্য বাণী হতে আটটি বাণী নিচে তুলে দিচ্ছি ; আশাকরি আপনাদের জীবন চলাতে এ কথাগুলো কাজে লাগবে।
১. আমি সত্যিকারের মা; গুরুপত্নী নয়, পাতানো মা নয়, কথার কথা মা নয় – সত্য জননী।
২.যেমন ফুল নাড়তে-চাড়তে ঘ্রাণ বের হয়, চন্দন ঘষতে ঘষতে গন্ধ বের হয়, তেমনি ভগবত্তত্ত্বের আলোচনা করতে করতে তত্ত্বজ্ঞানের উদয় হয়।
৩. ভালবাসায় সবকিছু হয়, জোর করে কায়দায় ফেলে কাউকে দিয়ে কিছু করানো যায় না।
৪.সৎসঙ্গে মেশো, ভাল হতে চেষ্টা কর, ক্রমে সব হবে।
৫.কাজ করা চাই বইকি, কর্ম করতে করতে কর্মের বন্ধন কেটে যায়, তবে নিষ্কাম ভাব আসে। একদণ্ডও কাজ ছেড়ে থাকা উচিত নয়।
৬. মনটাকে বসিয়ে আলগা না দিয়ে কাজ করা ঢের ভাল। মন আলগা হলেই যত গোল বাধায়।
৭.ভাঙতে সবাই পারে, গড়তে পারে কজনে? নিন্দা ঠাট্টা করতে পারে সব্বাই, কিন্তু কি করে যে তাকে ভাল করতে হবে, তা বলতে পারে কজনে?
৮.যারা এসেছে, যারা আসেনি, যারা আসবে, আমার সকল সন্তানকে জানিয়ে দিও, মা, আমার ভালবাসা, আমার আশীর্বাদ সকলের ওপর আছে।


 


শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের মহাপরিনির্বাণ দিবস

গতকাল ৮ জানুয়ারি ছিলো শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজের মহাপরিনির্বাণ দিবস। প্রণবানন্দেজীর আদর্শ এবং শিক্ষা আমাদের জাতীয় জীবনে অনেক বেশী প্রাসঙ্গিক। আমি গর্বিত এমন এক দৈবশক্তিসম্পন্ন মহাপুরুষের জন্ম আমাদের মাদারীপুরে হয়েছে।
স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ ১৮৯৬ সালের ২৯ জানুয়ারি বুধবার মাঘীপূর্ণিমা তিথিতে মাদারীপুর জেলার বাজিতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম বিষ্ণুচরণ ভূঞা এবং মাতার নাম সারদাদেবী। বাল্যকালে তাঁর নাম ছিল বিনোদ। নাথ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা গোরক্ষপুরের মহাযোগী বাবা গম্ভীরনাথজীর নিকট ১৯১৩ সালে ১৭ বৎসর বয়সে তিনি দীক্ষালাভ করেন এবং ১৯১৬ সালে মাত্র ২০ বৎসর বয়সে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। ১৯২৪ সালে প্রয়াগে অর্দ্ধকুম্ভমেলায় স্বামী গোবিন্দানন্দ গিরির নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করে স্বামী প্রণবানন্দ নামে পরিচিত হন। ১৯৪১ সালের ৮ জানুয়ারি মাত্র ৪৫ বৎসর বয়সে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। তাঁর পবিত্র দেহকে মাদারীপুরের বাজিতপুরে তাঁর জন্মস্থলে বিরাজিত সাধনক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়।
( ছবি দেয়া আছে)

আজ থেকে শতবর্ষ পূর্বে তিনি সনাতন ধর্মের প্রচার এবং প্রসারে সন্ন্যাসী সংঘ গঠন করেন, যে প্রতিষ্ঠান আজ ভারত সেবাশ্রম সংঘ নামে পৃথিবী খ্যাত। আর্ত-পীড়িত গরিব মানুষের জন্যে জীবন রক্ষায় ত্রাণের ব্যবস্থা , সমাজ-সংস্কার, তীর্থস্থান সংস্কার, ধর্মচক্র, কর্মচক্রের প্রবর্তন এবং হিন্দু মিলন মন্দির সহ অসংখ্য
অনন্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি উদ্ভাসিত হয়ে আছেন আমাদের হৃদয়ালোকে।
সর্বদা জ্যোতির্ময় তাঁর কিছু বাণী :
লক্ষ্য কি?- মহামুক্তি, আত্মতত্ত্বোপলব্ধি।
ধর্ম কি ?- ত্যাগ, সংযম, সত্য, বহ্মচর্য।
মহামৃত্যু কি ?- আত্মবিস্মৃতি।
প্রকৃত জীবন কি?- আত্মবোধ, আত্মস্মৃতি, আত্মানুভূতি। মহাপূণ্য কি ?- বীরত্ব, পুরুষত্ব, মনুষ্যত্ব, মুমুক্ষত্ব (মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছা)।
মহাপাপ কি ?- দুর্বলতা, ভীরুতা, কাপুরুষতা, সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা।
মহাশক্তি কি ?- ধৈর্য, স্থৈর্য, সহিষ্ণুতা।
মহাসম্বল কি ?- আত্মবিশ্বাস, আত্মনির্ভরতা, আত্মমর্যদা। মহাশত্রু কি?- আলস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা, জড়তা, রিপু ও ইন্দ্রিয়গণ।
পরম মিত্র কি ?- উদ্যম, উৎসাহ, অধ্যবসায়।




Thursday, January 5, 2017

যিশুখ্রিস্টকে ভগবানের অবতার এবং শান্তি-প্রেমের অবতার বলেই জানতান।

আমাদের পরিবার রামকৃষ্ণ মিশনের সাথে যুক্ত থাকার কারণে ছোটবেলায় যিশুখ্রিস্টকে ভগবানের অবতার এবং শান্তি-প্রেমের অবতার বলেই জানতান।
কিন্তু বাইবেল পড়তে যেয়ে বেশ কয়েকটি স্থানে আমি হোচট খাই, যেমন যে যিশুকে আমরা শান্তির অবতার বলে জানি সেই যিশুই যখন বাইবেলে বলছে:
"আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে আসেছি এই কথা মনে করো না। আমি শান্তি দিতে আসিনি বরং মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি ; ছেলেকে বাবার বিরুদ্ধে, মেয়েকে মায়ের বিরুদ্ধে, বৌকে শাশুড়ির বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে এসেছি।
একজন মানুষের নিজের পরিবারের লোকেরাই তাঁর শত্রু হবে।
যে কেউ আমার চেয়ে মা-বাবাকে বেশী ভালবাসে সে আমার উপযুক্ত নয়। আর যে কেউ ছেলে বা মেয়েকে আমার চেয়ে বেশী ভালবাসে সে আমার উপযুক্ত নয়। যে নিজের ক্রুশ নিয়ে আমার পথে না চলে সে-ও আমার উপযুক্ত নয়। যে কেউ নিজের জীবন রক্ষা করতে চায় সে তার সত্যিকারের জীবন হারাবে ; কিন্তু যে কেউ আমার জন্য তার প্রাণ হারায় সে তার সত্যিকারের জীবন রক্ষা করবে।"
( বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত পবিত্র বাইবেল : মথি, ৩৪-৩৯ ; পবিত্র নূতন নিয়মের ১৪ পৃষ্ঠা)

যিশুর বলা এই কথাগুলোর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানতে চাই ; যারা এই বিষয়ে অভিজ্ঞ আছেন তারা মতামত দিবেন প্লিজ।
সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা!


শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস

আমি আর কি বলব? তোমাদের চৈতন্য হোক
১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রথম কল্পতরু উৎসবের দিনটি ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস ও তাঁর অনুসারীদের জীবনে ছিল এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। সেই সময়ে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দুরারোগ্য গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থারও দিনে দিনে যথেষ্ট অবনতি হয়ে যাচ্ছিলো । তাই তাঁকে সুচিকিৎসার জন্যে উত্তর কলকাতার কাশীপুর এলাকার একটি বাগানবাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। ১ জানুয়ারি গোধূলিবেলায় ঠাকুর একটু সুস্থ বোধ করায় তিনি বাগানে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তাঁর ভক্ত নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ সহ অন্যদের তাঁর সকল ভালবাসা উজাড় করে দিয়ে আশীর্বাদ করেন এবং বলেন, “আমি আর কি বলব? তোমাদের চৈতন্য হোক।” এরপর তিনি সমাধিস্থ হয়ে তাঁর প্রত্যেক শিষ্যকে স্পর্শ করেন। রামকৃষ্ণ-অনুগামীদের মতে, তাঁর স্পর্শে সেদিন প্রত্যেক ভক্তের অদ্ভুত এক দৈব আধ্যাত্মিক অনুভূতি হয়েছিল।
শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের অন্যতম শিষ্য রামচন্দ্র দত্ত কল্পতরু সম্পর্কে বলেছিলেন, সেই দিন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব পুরাণে বর্ণিত কল্পতরুতে পরিণত হয়েছিলেন। কল্পতরু হলো এমন একটি স্বর্গীয় বৃক্ষ, তার কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। শ্রীরামকৃষ্ণও সেই দিনে তাঁর সকল ভক্তের মনের কামনা পূর্ণ করেছিলেন। তাই শিষ্য রামচন্দ্র দত্তই এই দিনটিকে "কল্পতরু দিবস" নাম দিয়েছিলেন, যা পরে কল্পতরু উৎসব নামে পরিণত হয়ে যায়। উল্লেখ্য, এই দিন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের গৃহস্থ ভক্ত-শিষ্যরাই তাঁর কাছে উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ১৮৮৬ সালে আমাদের চৈতন্য হবার জন্যে আশীর্বাদ করে গিয়েছেন, সেই আমাদের বিশেষ করে বাঙালী হিন্দুদের এতো বছরেও কতটুকু চৈতন্য হয়েছে ; তা আমি ঠিক জানি না। দিব্যজ্ঞানের সাথে সাথে যে একটু কাণ্ডজ্ঞানও প্রয়োজন সেই জ্ঞানের চৈতন্য তাদের কে দিবে!?
সবাইকে পবিত্র কল্পতরু উৎসবের চৈতন্যময় শুভেচ্ছা!



গোবিন্দ সিংহ

আজ শিখমতের সর্বশেষ মানুষী গুরু ; গোবিন্দ সিংহের ৩৫০ তম জন্মোৎসব। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দের ২২ ডিসেম্বরের আজকের তিথিতে তিনি বিহারের পাটনাতে জন্মগ্রহণ করেন।
হিন্দু ধর্ম থেকে আলাদা ধর্ম হয়ে যাওয়া তিনটি প্রধান ধর্মগুলোর মধ্যে শিখ অন্যতম। জয়দেব গোস্বামী, আচার্য রামানন্দ, সন্ত কবীর, সন্ত নামদেব, সন্ত রবিদাস, সন্ত সেনাজী, সন্ত পিপানন্দ সহ অনেক উত্তর ভারতের হিন্দু বৈষ্ণব সাধকদের রচনাবলীর উপরে শিখ মত প্রতিষ্ঠিত। সে হিসেবে শিখদের নিরাকার বৈষ্ণব সম্প্রদায় বললে খুব বেশী অত্যুক্তি হয় না।
আমরা হয়তো অনেকেই জানি না শিখদের ধর্মগ্রন্থ গুরুগ্রন্থসাহেবে প্রায় তিন হাজারবারের উপরে রামনাম আছে ; প্রায় ষোল হাজারের কাছাকাছি কৃষ্ণ বা শ্রীহরির নাম আছে ; এ ছাড়া কেশব, গোবিন্দ, গোপাল, দামোদর, মাধব, মধুসূদন, মুরারী, মুকুন্দ, বাসুদেব, বিষ্ণু প্রভৃতি ভগবান শ্রীহরির নাম প্রায় দুই হাজার স্থানে আছে। এমন কি শিখগুরুদের এবং তাঁদের সন্তানদের নামের তালিকাতেও এই পবিত্র শব্দগুলো জাজ্বল্যমানভাবে আছে ।
গুরুগ্রন্থসাহেবের আদিতম মন্ত্রই হলো -

এক ওঙ্কার কর্তা পুরুখ নিরভউ নিরাবয়াব অকালমুরত অজুনী সয়ভঙ্গ গুরু প্রসাদ।
এক অদ্বিতীয় পরমেশ্বর ওঙ্কার পদবাচ্য। তিনিই একমাত্র
অস্তিত্বশীল এবং বিদ্বেষ রহিত। তাঁর মূর্তি বা স্বরূপ কালের দ্বারা বিচ্ছিন্ন নয়। তিনি অযোনি সম্ভব অর্থাৎ সয়ম্ভূ। তাকে একমাত্র গুরু কৃপায় জানা যায়।
এ মন্ত্রটিকে শিখ ধর্মের গায়ত্রী বলা হয়। শিখদের সকল উপাসনা এ মন্ত্রটি উচ্চারণ করেই হয়। আপনারা লক্ষ্য করেন এ মন্ত্রটিতে বেদের - 'একমেবাদ্বিতীয়ম ' সহ ব্রহ্মের সকল ধারণা পরিস্ফুটিত।
তুর্কি, মোগলদের নৃশংস অত্যাচারে নিষ্পেষিত হয়ে রাজনৈতিক কারণে ভক্তিবাদী কবীর পন্থ, রবিদাস পন্থের ন্যায় হয়েও নানক পন্থ হিন্দু সমাজ থেকে একটু একটু করে দূরে সরে যেয়ে নানক পন্থ/ শিখ পন্থ শিখ ধর্মে রূপান্তরিত হয়ে যায়। গুরু গোবিন্দ সিংহের ধর্ম রক্ষার্থে 'খালসা বাহিনী' এবং পরবর্তীকালে মহারাজ রণজিৎ সিংহের রাষ্ট্রশক্তির সহায়তাই শিখজাতিকে একতাবদ্ধ করে তোলে।

 

Thursday, August 25, 2016

জগন্নাথ অর্থাৎ জগতের নাথ। পরমেশ্বর ভগবানের করুণাঘন রূপ। জগন্নাথধাম হিন্দু জাতির চার ধামের এক ধাম। দেবীর ৫১ পীঠের এক পীঠ। জগন্নাথদেবের বিগ্রহ অসম্পূর্ণ। তাঁর দৃশ্যমান হস্ত,পদ না থাকা সত্ত্বেও তিনি হস্ত-পদময়। কারণ এই জগতে এবং সকল জীবের মাঝেই তাঁর প্রকাশ। আবার তিনি এ জগতের পারে, সকল ইন্দ্রিয়ের পারে, ইন্দ্রিয়, বাক্য, মনের অগোচর হয়ে সদা বিরাজিত হয়ে আছেন ।
সারা ভারতবর্ষে যতো প্রাচীন মন্দির আছে তার প্রত্যেকটি মন্দিরে বিগ্রহের কিছু স্বতন্ত্রতা আছে। তেমনি স্বতন্ত্রতা জগন্নাথ বিগ্রহের। অপরূপ করূণাঘন চোখে তাকিয়ে আছেন ভগবান ভক্তের পানে। স্কন্ধপুরাণের উৎকল খণ্ডে জগন্নাথদেবের এ রূপের কারণ দেয়া আছে খুব সুন্দর করে, তা আমরা মোটামুটি সবাই বৃদ্ধ কারিগরের এ ঘটনাটা জানি। তাই সেদিকে আর আমি যাচ্ছি না।
জগন্নাথদেব সনাতন হিন্দুর শাক্ত, শৈব,গাণপত্য, সৌর এবং বৈষ্ণব এ পঞ্চ মতেরই একত্বের প্রতীক। বলদেব শিবের, শুভদ্রা শক্তির, জগন্নাথ বিষ্ণু, আর সুদর্শন সূর্যের প্রতীক বলে উপাসনা করা হয়। পঞ্চমতের মধ্যে বাকি রইল একটি গাণপত্য। তাই স্নানযাত্রার দিনে জগন্নাথদেবকে গণেশরূপে উপাসনা করা হয়। আবার জগন্নাথদেবের যেহেতু দৃশ্যমান হস্ত-পদ নেই, তাই তিনি হস্ত-পদের পারে ব্রহ্মস্বরূপ। এবং তাঁর বিগ্রহকে বলা হয় দারুব্রহ্ম।
জগন্নাথদেবের মন্দির শুধুমাত্র হিন্দুদের সকল মত-পথের একতার প্রতীকই নয় ; হিন্দু জাতির একতা গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। জগন্নাথদেবের গর্ভগৃহে সকল হিন্দুদের সহ ভারতে উৎপন্ন বৌদ্ধ, জৈন,শিখসহ সকল ধর্মাবলম্বীদেরই প্রবেশের অধিকার । (শুধুমাত্র সেমেটিক ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশাধিকার নেই, কারণ তারা সুযোগের অসৎ ব্যাবহার করে প্রচুর অসভ্যতা করেছে বিভিন্ন সময়।) জগন্নাথদেবের প্রসাদ ব্রাহ্মণ-শূদ্র (কথিত) নিবির্শেষে সকলে এক সাথে, এক পাতে বসে গ্রহণ করে।
যেখানে জগন্নাথদেবের প্রসাদ পাওয়া যায়, সেই স্থানের নাম আনন্দবাজার। অপূর্ব নামকরণ! এ যেন একতার আনন্দবাজার। এ যেন জাত-পাতের রাজনীতিকে একপাশ রেখে হিন্দুত্বের মিলনের আনন্দবাজার।
জগন্নাথদেবের পূজা হয় দ্বৈতভাবে, ব্রাহ্মণ পাণ্ডাদের রীতিতে এবং শূদ্র শবরদের রীতিতে। সকলেই সমান সমান অংশগ্রহণকারী জগন্নাথদেবের উপাসনায়।
সাধারণত দেবতা থাকে মন্দিরে আর ভক্তরা এসে বিগ্রহকে প্রণাম করে, উপাসনা করে। কিন্তু জগন্নাথদেব এর ব্যতিক্রম তিঁনি সাধারণজনের মাঝে সাধারণজন হয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন। তিঁনি তো রাজাধিরাজ তিঁনিই যখন নেমে এসেছেন রাজপথে, তখন দেশের রাজার তো সাধ্য নেই রাজসিংহাসনে বসে থাকার। তিনিও চলে এসেছেন রাজপথে সাধারনজনের কাছে। হাতে ঝাড়ু নিয়ে হয়েছেন জগন্নাথদেবের পথের ঝাড়ুদার। রাজা- প্রজা সকলেই আজ একাকার! অপূর্ব সাম্যবাদের শিক্ষা।
শ্রীশঙ্করাচার্য, শ্রীরামানুজাচার্য,শ্রীচৈতন্যদেব সহ আমাদের প্রায় সকল আচার্যবৃন্দেরই উপাসনার, সাধনার স্থান ছিলো জগন্নাথ ধাম। তাই আমাদের প্রায় সকল আচার্যবৃন্দই শ্রীক্ষেত্র/পুরুষোত্তম ক্ষেত্র /শঙ্খক্ষেত্র /নীলাচল ক্ষেত্র /মুক্তিক্ষেত্র ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিত জগন্নাথধামের মাহাত্ম্যকথা প্রচার করেছেন এবং জগন্নাথদেবের মাহাত্ম্যযুক্ত স্তোত্র রচনা করেছেন।
পরিশেষে শ্রীপাদ শঙ্করাচার্যের ভাষায় শ্রীজগন্নাথদেবের কাছে আমাদেরও একমাত্র প্রার্থনা :

হে জগন্নাথদেব তুমি আমার নয়নপথে আসো!
তোমার কৃপাঘন ওই গোলাকার চখা-চখা
কমল নয়নকে কবে আমি আপন করে
আমার হৃদয়মাঝে পাব?





 Author : 

Kushal Chakraborty



ভারতবর্ষের বিজ্ঞানের অগ্রনায়ক আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের পূত জন্মদিন আজ ।

আজ ২ আগস্ট বাঙালি তথা ভারতবর্ষের বিজ্ঞানের অগ্রনায়ক আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের পূত জন্মদিন। ১৮৬১ সালে বাংলাদেশের খুলনা জেলার রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান বিজ্ঞানসাধক। পিতা ছিলেন বহুভাষাবিদ, সুপণ্ডিত, সমাজসেবী ও বিদ্যোৎসাহী হরিশচন্দ্র রায়চৌধুরী এবং মাতা
ভুবনমোহিনী দেবী।
জমিদার পরিবারে জন্ম হলেও, তিনি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন সাধারণ জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত।
১৮৭৯ সালে তিনি কোলকাতার আলবার্ট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়েন।
১৮৮২ সালে গিলক্রাইস্ট বৃত্তি নিয়ে লন্ডন থেকে বি.এস.সি পাশ করেন।
১৮৮৭ সালে রসায়ন শাস্ত্রে মৌলিক গবেষণার জন্যে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.এস.সি ডিগ্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হোপ পুরষ্কার লাভ করেন।
১৮৮৯ সালে কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়নের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরাধীন ভারতবর্ষের বিজ্ঞান শিক্ষায় মন -প্রাণ সমর্পণ করেন।
পরে তিনি এই বিভাগেই ১৯১১ সালে বিভাগীয় প্রধান এবং অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি ১৯০১ সালে 'বেঙ্গল কেমিক্যাল এবং ফার্মাসিটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড ' এর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলায় প্রথম সার্থক রাসায়নিক দ্রব্য এবং ঔষধের কারখানা স্থাপন করা।
বিজ্ঞানে বহু মৌলিক আবিষ্কারের কারণে তিনি বাংলা এবং ভারতে তাঁর সমসাময়িক প্রায় সকল বিজ্ঞান সভার সভাপতিত্ব করেন।
বিশুদ্ধ বিজ্ঞান বিশেষ করে রসায়ন শাস্ত্র ছাড়াও তিনি বহু সামাজিক সমস্যায় আমাদের করণীয়, বর্জনীয় বিষয় নিয়ে লিখে গিয়েছিলেন আমৃত্যু। বিজ্ঞান, অর্থনৈতিক, সমাজভাবনা,সাহিত্য, শিল্প,শিক্ষা, আত্মবিক্ষা,রাজনীতি, রবীন্দ্রনাথ, প্রকৃতি ও পরিবেশ ; কি নেই তাঁর লেখায়!
(এ বিষয়ে আগ্রহীরা পড়তে পারেন দে'জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত পিনাকপাণি দত্ত এবং শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রবন্ধসংগ্রহ। ৫৯১ পৃষ্ঠার অসাধারণ একটি বই।)
তাঁর গবেষণার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তিরূপে ধরা হয় প্রাচীন ভারতে হিন্দুদের বিজ্ঞান সাধনার ইতিহাসের গ্রন্থ - 'হিস্ট্র অব হিন্দু কেমিস্ট্রি (দুই খণ্ডে) ' এ অমূল্য গ্রন্থটি। একবুক বিস্ময় নিয়ে এ বইটি পড়লাম। অবাক হলাম যে ১৯০২ সালে তিনি এ বইটির প্রথম খণ্ড প্রকাশ করেন ; কিন্তু আজ ২০১৬ তে এসেও এ বই আমাদের হাতের সীমানার বাইরে! এ বইয়ের প্রত্যকটি তথ্য জানা আমাদের একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু এ সকল প্রাচীন গৌরবের তথ্য জানিনা বলেই, আমরা বাঙালি হিন্দুরা দিনে দিনে হতচ্ছাড়া, লক্ষ্মীছাড়া হয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রাচীন গৌরব যদি সঠিকভাবে নাই জানি, তবে আমাদের মধ্যে স্বাভিমান, আত্মশ্লাঘাবোধ জাগবে কি করে?
বাংলায় রসায়নের চর্চার আকাঙ্ক্ষায় তিনি ১৯২৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুইলক্ষ টাকা দান করেছিলেন। সেই সময়ের দুইলক্ষ টাকা আজ হয়তো তা কয়েকশো কোটি টাকা হবে। ভাবা যায়!
সারা জীবনব্যাপী বাংলা মায়ের সেবা করেছেন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে। কিন্তু আজ বলতে খুব খারাপ লাগছে যে, তাঁর মাতৃভূমি এই বাংলাদেশে তিনি কি তাঁর যোগ্য সম্মান পেয়েছেন? এতো কাজের পরেও কেন তিনি তার মাতৃভূমিতে অবহেলিত! যিনি এদেশে বিজ্ঞান প্রযুক্তির অগ্রনায়ক, তাঁর নামে কি দেশে এতোগুলো বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটিরও নামকরণ করা যেত না! অথবা তাঁর নামে সামান্য একটা হলেরও তো নামকরণ করা যায়! প্রশ্ন রইলো সবার প্রতি।
যতদিন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের মতো দেবতুল্য ব্যক্তিরা তাঁদের যোগ্যসম্মান না পেয়ে, অবহেলার ধুলোতে পরে থাকবে; ততোদিন এ জাতি, এ দেশ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

( জন্মদিনে আচার্যের প্রতি রইল অনন্ত শ্রদ্ধা)

 Author : 


Kushal Chakraborty




বিশ্বকবি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন সত্য, সুন্দরের সাথে সাথে যুগপৎ অসত্য, অসুন্দরের বিরুদ্ধে দ্রোহেরও কবি।

আজ ২২ শে শ্রাবণ। বিশ্বকবি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তিরোধান দিবস। তিনি ছিলেন সত্য, সুন্দরের সাথে সাথে যুগপৎ অসত্য, অসুন্দরের বিরুদ্ধে দ্রোহেরও কবি। তিনিই আমাদের শিখিয়েছেন - 'অন্যায় যে করে, অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তাকে যেন তৃণসম দহে।' বাঙালির জীবনে সর্বক্ষেত্রে ভাষা দিয়েছেন তিনি। ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় 'শেষলেখা ' কাব্যগ্রন্থটি। এ কাব্যগ্রন্থে আমাদের জীবনের নাট্যমঞ্চের আলো-ছায়ায় অনেক রুঢ়সত্য, জীবন-সত্যকে তিনি দেখিয়ে আমাদের জীবনের সন্মার্গ প্রদর্শন করেছেন।
তাই গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজার ন্যায় আজ কবিগুরুর 'শেষলেখা 'কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা দিয়েই ঋষিতুল্য ব্রহ্মজ্ঞ এই পুরুষের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা-তর্পণ করছি।
রূপ-নারানের কূলে
জেগে উঠিলাম,
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।
রক্তের অক্ষরে দেখিলাম
আপনার রূপ,
চিনিলাম আপনারে
আঘাতে আঘাতে
বেদনায় বেদনায় ;
সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।
আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন -
সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,
মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ ক'রে দিতে।

(উদয়ন, শান্তিনিকেতন, ১৩ মে ১৯৪১, রাত্রি :৩.১৫ মি.)





 Author : 


Kushal Chakraborty